ভেটদের সৃজনশীলতা

ভেটেরিনারি মেডিসিন পড়ুয়া স্টুডেন্টরা কেন জানি একটু সৃজনশীল কম হয়।বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ও বেছে বেছে তাদেরই সিলেক্ট করে যারা একটু ঘরমুখো,যাদের জীবন ক্লাস পড়াশুনার গন্ডির ভেতর আবদ্ধ।এমনকি স্মার্ট, সুন্দর ছেলে মেয়ে সংখ্যা ও এ বিষয়ে নিতান্তই কম।
এধরনের কথাবার্তা প্রায় অনেকের মুখে শোনা যায়।আসলেই কি তাই?
আমার তো তা মনে হয় না।কলেজে থাকতে দেখেছি এমন অনেক পড়ুয়া স্টুডেন্টদের,যাদের পড়া লেখা ছিল এক মাত্র ধ্যান জ্ঞান,নিজের শরীর বা পোশাকের দিকে তাকানোর সময় পর্যন্ত ছিল না,আর আজ তাদের দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়।ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে হয়ত সে কোন নামকরা পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেনামী বিষয়ে পড়ছে অথবা কোথাও ঠাই না পেয়ে বেনামী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম করা বিষয়ে পড়ছে।আপেক্ষিক ভাবে দুইটায় সমান।
অর্ধ পানি ভরা গ্লাসের মত,কেউ দেখে গ্লাসে অর্ধেক পানি আছে আবার অন্য দিকে কেউ দেখে গ্লাস অর্ধেক ফাঁকা।

রোজ রোজ সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ক্লাস,তারপর তো আবার ল্যাব, প্র্যাকটিকাল,এসাইন্মেন্ট,ক্লাস টেস্টের প্যারা তো আছেই।এত কিছু করার পর প্রাণ ভরে নিশ্বাসের ফুসরতই পাওয়া যায় না আর সৃজনশীলতা!
সারাদিন পশুপাখির মেডিকেল টার্ম পড়ার পর রবীঠাকুরের প্রেমের গল্প বা কাজী নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা কার মাথায় ঢুকে তা কি বলতে পারেন?
মুলকথা বলতে গেলে ডাক্তারী পড়তে গেলে সৃজনশীলতা হারাবে।কিন্তু ডাক্তারী পড়া বাদে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে এমন অনেক বিষয় আছে যেখানে একজন অসৃজনশীল ব্যাক্তি ও সৃজনশীল ব্যাক্তিতে পরিনত হয়।
আমার এমন অনেক বন্ধু আছে যারা কলেজে থাকতে অনেক সৃজনশীল কাজ করেছে,কিন্তু কালের স্রোতে আজ তাকে সৃজনশীলতার ধারের কাছে ও পাওয়া যায় না।
এসবই হচ্ছে শোনা কথা।আমার মনের কথা না।
এসব কথা তারাই বলে যারা অলস,যাদের জীবন প্রায় শেষের পথে।জীবন মানে কি শুধু পড়ালেখা?পড়ালেখা হয়ত একটা ডিগ্রী এনে দেবে,কিন্তু একজন ভাল মানুষ হতে আদৌ কি লেখা পড়ার প্রয়োজন আছে?
মানুষ তাদেরই পছন্দ করে,যারা মজা করতে পারে।একজন ডাক্তার যদি ভাল গান গাইতে পারে ভাল লিখতে পারে,সুন্দর করে কথা বলতে পারে সেটা তার ডাক্তারী জীবনে ও বিরাট ভুমিকা পালন করবে।
মানুষ কখনোই একজন রসকসহীন অল্পভাষী ডাক্তারকে পছন্দ করবে না অথবা তারা তার ভার্সিটি জীবনে কেমন পড়ালেখা করেছে বা কেমন রেজাল্ট বা তার সিজিপিএ কত ছিল এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহবোধ ও দেখাবে না।
কিন্তু একজন সৃজনশীল,মিষ্টভাষী ডাক্তার যে কিনা তার কঠিন জীবনকে সহজ ভাবে উপস্থাপন করতে পারে,তার হাজার ভুল ও মানুষ ক্ষমা করে দিতে পারে নির্দ্বিধায়।
একটা ছোট শিশু ডাক্তার হবার স্বপ্ন কি দেখে শেখে বা আমি বা আপনি যখন স্বপ্ন দেখি তখন আসলে কি স্বপ্ন দেখি? নিশ্চয় রসকশহীন কোন একটা জীবনকে না।আমরা সবসময় রঙিন সহজ স্বপ্ন দেখতেই পছন্দ করি।
নিজের জন্য না হলে ও, সাধারন মানুষের জন্য, নিজের প্রফেশন সম্পর্কে সাধারন মানুষকে জানাতে ভেটেরিনারি মেডিসিন পড়ুয়া স্টুডেন্টদের সৃজনশীলতা চর্চার বিকল্প নাই।
আজ আমাদের আলসেমির কারনেই,সাধারন মানুষ একজন ভেট বা ভেটেরিনারি সার্জন সম্পর্কে ভুল জানে।
সাধারন মানুষের তো আর ক্ষমতা নেই, কড়া কড়া ইংলিশে লেখা বই গুলো পড়ে ভেটেরিনারি মেডিসিন সম্পর্কে জানবে,আমাদের নিজদেরই সাধারন মানুষকে আমাদের সম্পর্কে জানাতে হবে, আমার মনে হয়,সৃজনশীলতায় পারে আমাদের পেশাকে মানুষের মাঝে প্রকাশ করতে।
~সজীব আহমেদ প্রিন্স
ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন,পবিপ্রবি।

Share this

Related Posts

First